প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী বাল্য বিয়ের কবল থেকে রক্ষা পেল

টাঙ্গাইল শিক্ষা ডেস্ক:
যে বয়সে একটি মেয়ের পড়াশুনা আর খেলাধূলা নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা। বয়স ১০ এর সীমানা পেড়োয়নি এখনো। স্বামী, শশুর, শাশুড়ী সংসার জ্ঞান এখনো হয়নি তার। হওয়ার কথাও নয়। তবুও পরিবারের সিদ্ধান্তে বিয়ের পিড়িতে বসতেই হয় বুধবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামের ঐ শিশুটিকে।

পিতৃহারা ওই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করেন তার মা ও চাচা। পিতার অবর্তমানে দশ বছরের শিশুটিকে বোঝা মনে করে চাচা হাফেজ উদ্দিন চেয়েছিলেন বিয়ের মাধ্যমে তাকে বিদায় করতে। কিন্তু বাধ সাধলেন প্রশাসন। বরযাত্রী আসছেন তাই চাচার বাড়িতে মেজবানী আয়োজন। সাজানো হয়েছে রঙ্গীন প্যান্ডেল। রান্না-বান্নাসহ সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন। বর এসে বধূ বেশে তুলে নিয়ে যাবেন শিশুটিকে। এমন সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুলিশ নিয়ে হাজির। বেঁচে গেলো শিশুটি বাল্য বিয়ের কবল থেকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খবর দেয়া হলো সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে। এরকম একটি শিশু বিয়ের খবর চেয়ারম্যান জানতেন না বলেই তিনি জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক তার ইউনিয়নে এরকম একটি বাল্য বিয়ের আয়োজনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন।

এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকতারুননেছা বলেন, বুধবার বিকালে মামুদপুর গ্রামে ৪র্থ শ্রেণির শিশুকে বিয়ে দেয়া হচ্ছে এমন খবরে সন্ধ্যায় ওই গ্রামে গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তাসহ পড়ালেখার খরচ উপজেলা প্রশাসন বহন করবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *